ঘূর্ণিঝড় রিমালে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ল বাংলাদেশ?
সুন্দরবনে স্বাভাবিক সময়ে ২৪ ঘণ্টায় দুই বার জোয়ার এবং দুই বার ভাঁটা হয়। সেই হিসেবে ঘূর্ণিঝড় রিমাল আঘাত হানার পর গত ৪৮ ঘণ্টায় সুন্দরবন চারবার জোয়ারের পানিতে প্লাবিত ও চারবার ভাঁটায় পানি নেমে যাওয়ার কথা।
কিন্তু এবার সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য প্রথম এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে - কারণ রিমাল আঘাত হানার পর এবার টানা ৪৮ ঘণ্টা পানিতে তলিয়ে ছিল পুরো বনাঞ্চল।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা এখনই অবশ্য এত সহজ নয়। কারণ জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণী ও গাছপালার যে ক্ষতি হয় তা নিরূপণ করা সময়সাপেক্ষ।
তবে এই মুহূর্তে অবকাঠামোগত যেসব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা প্রাথমিকভাবে নিরূপণ করা হয়েছে।
বাঘ, হরিণ থেকে শুরু করে মৌমাছিও মিষ্টি পানি পছন্দ করে। সুন্দরবনে এখন মধুর সিজন চলছে। মিষ্টি পানি ছাড়া মধু আহরণ করতে পারে না মৌমাছি।
মি. হোসেন বলেন, “ফলে প্রত্যেকটি বন্য প্রাণীই আগামী কিছুদিন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সামনে বর্ষার মৌসুম আসছে। এখন জরুরি ভিত্তিতে পুকুরগুলি ডিওয়াটারিং করে সেখানে বর্ষার মিষ্টি পানি ধরতে হবে। মিষ্টি পানি না ধরা পর্যন্ত বন্যপ্রাণীর উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। ফলে যত দ্রুত বর্ষা মৌসুম আসবে বন্য প্রাণীর জন্য তত ভালো হবে।”
এদিকে সুন্দরবনের পশ্চিম এলাকায় গরান বন বেশি হওয়ার কারণে বন্য প্রাণীর মৃত্যু সংখ্যা কম। কারণ গরান গাছগুলো ঝোপের মত গাছ। ফলে প্রবল তোড়ে গরান বনে পানি ঢুকতে পারে না। তাই সেখানে বন্য প্রাণীর মৃতের সংখ্যা কম। তবে ওখানে লবনাক্ততা বেশি।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের এলাকায় কেওড়া বন বেশি। এ গাছগুলো অনেক বড় বড় হয়। ফলে নিচে ফাঁকা থাকায় প্রবল গতিতে পানি প্রবেশ করে বন্য প্রাণীর মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হয়েছে।
গাছের উচ্চতার তারতম্যের কারণে এই বিভাগে হরিণের মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হয়েছে বলে জানান কর্মকর্তারা।
কর্মকর্তারা জানান, কটকা, কচিখালী, দুবলা ও হিরণ পয়েন্ট সৈকতে মৃত হরিণ বেশি দেখা গেছে।
করমজল বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির। তিনি বলেন, “সুন্দরবনে জোয়ারে যে পানি হয় তার চেয়ে এবার পাঁচ-ছয় ফুট বেশি পানি হয়েছে। জোয়ারের পানি ছিল দীর্ঘ সময়। এটা প্রাণীদের জন্য খুবই নাজুক অবস্থা তৈরি করে। কেন্দ্রের কোনও প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে, দুইটি বন্য হরিণ ও একটি শুকরের মৃতদেহ পাওয়া গেছে।”

Comments
Post a Comment