প্রতীক্ষার চাতক ডাকছে না, বেড়েছে বৃষ্টির অপেক্ষা
মৌসুমি পাখি দেখা গেছে, হয়তো বৃষ্টি আসছে’। দক্ষিণ ভারতীয় ইংরেজি গণমাধ্যম ডেকান ক্রনিকলের গত মে মাসের শেষ দিনের এক প্রতিবেদনের শিরোনাম এটি। এখানে লেখা আছে, এরপরই কৃষক মাটিতে বীজ বুনতে জমি চাষের প্রস্তুতি নেবেন। অর্থাৎ একটি পাখির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে আবহাওয়া ও ফসলের মাঠের।
প্রতিবেদনের ‘মনসুন বার্ড’ বলে পরিচয় করিয়ে দেওয়া পাখিটি বাংলার ‘চাতক’। সংস্কৃততেও এ পাখিকে চাতক নামেই ডাকা হয়। তেলেঙ্গানা রাজ্যের জহিরাবাদ এলাকায় এ বছর প্রথমবারের মতো চাতক পাখিকে দেখে লেখা হয়েছে ‘মুনসুন বার্ড স্পটেড, রেইনস অন দেয়ার ওয়ে’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি।
পাখি দর্শনের সঙ্গে মেঘ-বৃষ্টির সম্পর্কের কথা বাংলার লালন ফকিরের সুরে সুরে এসেছে আরও কত আগে। তিনি তাই লম্বা লেজওয়ালা কালোরঙা অতি চঞ্চল এ পাখি নিয়ে প্রশ্ন রাখলেন, ‘অমৃত মেঘের বারি মুখের কথায় কি মেলে?/ চাতক স্বভাব না হলে।’
গ্রীষ্মকালে পরিযায়ী হিসেবে জ্যাকোবিন কুক্কো আর চেস্টনাট উইন্ড কুক্কো নামে কোকিল গোত্রের যে দুটি প্রজাতির পাখি বাংলাদেশে আসে, তাদেরই ডাকা হয় চাতক বলে। ওরা সাধারণত মার্চ থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে আসতে শুরু করে। আবার জুন থেকে জুলাইয়ের মধ্যে চলে যায়। এই পাখিকে একসময় মানুষের ঘরের কাছেই দেখা যেত। এখন মধুপুর, সাতছড়ি ও লাউয়াছড়ায় পাওয়া যাবে।
মো. কামরুল হাসান, অধ্যাপক, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

Comments
Post a Comment