জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হুমকির মুখে খুলনার কৃষি পরিবেশ

 




জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হুমকির মুখে খুলনার কৃষি পরিবেশ

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খুলনা অঞ্চলে কৃষির ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। আবহাওয়ার ধরনে পরিবর্তন হওয়ায় দিন দিন তাপমাত্রা বাড়ায় ফসলের উৎপাদন কমছে। একইসঙ্গে এই অঞ্চলে ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

জলবায়ুর এই সংকটে আগামী দিনে খাদ্য উৎপাদন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে আশঙ্কা করছেন জলবায়ু ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং কৃষি কর্মকর্তারা।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে আগামী দিনে পশুপালনের পাশাপাশি খাদ্যশস্য উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। অনেক এলাকায় ব্যাপক আকারে পানিস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। এবারের তীব্র গরমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য, পানি, প্রতিবেশ ও দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহারযোগ্য পানির সংকট প্রকট করে তুলেছে।

গত ২৫ বছরে খুলনা অঞ্চলে তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে। ২০১১ সালে এই অঞ্চলের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি বছর সেই তাপমাত্রা ছাড়িয়েছে রেকর্ড অর্থাৎ ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এতে উপকূলীয় এই অঞ্চলে দিন দিন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে এমন তাপমাত্রার কারণে হুমকির মুখে পড়ছে কৃষি, মৎস্যসহ উৎপাদন খাত। তাই এখনই এ বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ।

নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বসবাস করছেন দক্ষিণ-পশ্চিমের উপকূলের মানুষজন। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে জীবন-জীবিকা। লবণাক্ততার কারণে জমিতে ফসল ফলাতে পারছেন না, উর্বরতা হারাচ্ছে কৃষিজমি। গৃহপালিত পশুর খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।

খুলনা আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে ঘূর্ণিঝড় আইলার পর থেকে গত ১৫ বছরে এক ডজনের বেশি দুর্যোগের কবলে পড়েছে উপকূল। ২০১৩ সালে ঘূর্ণিঝড় মহাসেন, ২০১৫ সালে কোমেন, ২০১৬ সালে রোয়ানু, ২০১৭ সালে মোরা, ২০১৯ সালে ফণী, ২০১৯ সালে বুলবুল, ২০২০ সালে আম্পান, ২০২১ সালে ইয়াস, ২০২২ সালে অশনি ও সিত্রাং। এগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের ফল।

বছর বছর বাড়ছে তাপমাত্রা উল্লেখ করে খুলনা আবহাওয়া অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবায়দুল বলেন, ‘খুলনায় গত ১ মে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। ২৯ এপ্রিল রেকর্ড হয়েছিল ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২৫ এপ্রিল রেকর্ড হয়েছিল ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

২০২৩ সালের ১৬ এপ্রিল সর্বোচ্চ ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি, ২০১৪ সালের ২৩ এপ্রিল ৪০ দশমিক ৭ ডিগ্রি, ২০০৯ সালের ২৬ এপ্রিল ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি, ২০২১ সালের ২৫ এপ্রিল ও ২০০২ সালের ২০ মে ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল। হিসাবে প্রতি বছরই তাপমাত্রা বাড়ছে।’


Comments